মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে নির্মাণাধীন একটি বিমানবাহী রণতরীর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এই রণতরীটি আগে পার্ল হারবার হামলায় বীরত্ব প্রদর্শনকারী কৃষ্ণাঙ্গ নাবিক ডরিস মিলারের সম্মানে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই অভ্যন্তরীণ আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ফোর্ড-ক্লাস এই রণতরীটির নাম ‘ইউএসএস ডরিস মিলার’ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ডরিস মিলার ছিলেন একজন তালিকাভুক্ত নাবিক, যিনি জাপানের হামলার সময় মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমানে নৌবাহিনী রণতরীটির নতুন নাম কী হবে তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে দুটি সূত্র জানিয়েছে যে, রণতরীটির নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্মানে রাখার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নামে বিমানবাহী রণতরীর নামকরণ একটি নজিরবিহীন ঘটনা হবে।
সূত্রগুলোর তথ্যমতে, নৌবাহিনী ডরিস মিলারের নামে অন্য একটি যুদ্ধজাহাজ নামকরণের পরিকল্পনা করছে। একই সাথে তাকে সামরিক বীরত্বের সর্বোচ্চ সম্মান ‘মেডেল অফ অনার’ প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে এই পদকের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে।
ডরিস মিলারের পরিবারের সদস্য থমাস ব্লেডসো জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত বা তাকে মেডেল অফ অনার প্রদানের নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ব্লেডসো বলেন, তার পরিবার বহু বছর ধরে এই সম্মানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং নৌবাহিনীর এই সুপারিশকে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তা প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে তাদের কাছে ঘোষণা করার মতো কোনো তথ্য নেই। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও এবং তার দপ্তর রণতরীর নামকরণের নীতিমালা হালনাগাদ করার বিষয়ে কাজ করছেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট, অ্যাডমিরাল বা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যুদ্ধের নামে জাহাজ নামকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
জাহাজটির নাম নিয়ে আলোচনার মধ্যে নৌবাহিনী অভ্যন্তরীণভাবে সেটিকে ‘ইউএসএস ডরিস মিলার’ না ডেকে শুধুমাত্র হাল নম্বর ‘সিভিএন-৮১’ হিসেবে উল্লেখ করছে। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক একটি নির্বাহী আদেশেও জাহাজটিকে শুধুমাত্র সিভিএন-৮১ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। জাহাজটির নির্মাণকাজ ২০৩৪ সালের আগে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর কিল-লেয়িং বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে পার্ল হারবারে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব থমাস মডলি আনুষ্ঠানিকভাবে এই রণতরীর নাম ঘোষণা করেছিলেন। টেক্সাসের ওকোর বাসিন্দা ডরিস মিলার ১৯৩৯ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪১ সালে পার্ল হারবার হামলার সময় তিনি লন্ড্রি থেকে ফিরে এসে তার আহত কমান্ডিং অফিসারকে সহায়তা করেন এবং প্রশিক্ষণ ছাড়াই একটি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান চালিয়ে জাপানি যুদ্ধবিমান প্রতিহত করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৩ সালে মাকিন যুদ্ধের সময় একটি জাপানি সাবমেরিনের টর্পেডোর আঘাতে তিনি নিহত হন।
২০২৫ সালে নৌবাহিনীতে একটি নামকরণ কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক সম্পদের নামকরণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা। তৎকালীন সচিব জন ফেলান মনে করতেন, বিমানবাহী রণতরীগুলোর নাম শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট, নৌ-অ্যাডমিরাল বা গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের স্মারক হওয়া উচিত। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের অধীনে পেন্টাগন বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির নামে রাখা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে এর আগে ইউএসএনএস হার্ভি মিল্কের নামও পরিবর্তন করা হয়েছিল।

