যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট মিসাইল পেলেই শীতকাল পার করা সম্ভব: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জরুরিভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল প্রয়োজন। বর্তমানে ইউক্রেনের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর রয়েছে। জেলেনস্কি জানান, তার দিন কাটছে মিত্র দেশগুলোর সাথে পর্দার আড়ালে নানা দরকষাকষি এবং অগণিত ফোন কলে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুত থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর পেলেই তারা রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারবেন। আর যদি ৫ শতাংশও পাওয়া যায়, তবে ইউক্রেন কোনোমতে শীতকাল পার করে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারবে। বর্তমানে তার হাতে মাত্র ১ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর রয়েছে।

জেলেনস্কি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর তাদের কাছে আড়াই গুণ কম ইন্টারসেপ্টর রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া প্রতি মাসে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল ২০২২-এর পর জুলাই মাসটি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল। জেলেনস্কি বলেন, প্রতি রাতেই হামলা হচ্ছে এবং মাসে চার-পাঁচবার বড় ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। মানুষ অত্যন্ত সাহসী ও সহনশীল হলেও এখন তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সংকট রয়েছে, যার একটি বড় কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে প্রচুর মিসাইল ব্যবহার করেছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় মাশুল দিচ্ছে ইউক্রেন, যেখানে অনেক রাতে শহরগুলো রাশিয়ার রকেট হামলার মুখে কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।

জেলেনস্কির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সাথে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার বিভিন্ন উপায় নিয়ে তারা কাজ করছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা এবং কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ চূড়ান্ত বা নিশ্চিত করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তা আরও জোর দিয়ে বলেন, তাদের অগ্রাধিকার হলো নিজস্ব উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা রক্ষা করা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো।

জেলেনস্কি জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং মিত্রদের মাধ্যমে প্যাট্রিয়ট সহায়তা বাড়ানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি তার ব্যক্তিগত তৎপরতা বা গোপন আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি স্বীকার করেন যে, প্যাট্রিয়ট মিসাইল তৈরির লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও প্যাট্রিয়ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কিয়েভ সফর করেছেন, তবে কার্যকর কোনো ফলাফল এখনো আসেনি।

শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ নতুন প্রস্তাবনা দিলেও তা স্থবির হয়ে আছে। তিনি মার্কিন প্রশাসনের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ইউক্রেন দনবাসের অবশিষ্ট অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং তার লক্ষ্য হলো দ্রুত বিজয় অর্জন করে কোনো ছোট দেশকে দখল বা নিয়ন্ত্রণ করা, তা দেশটি ন্যাটোর সদস্য হোক বা না হোক।

জেলেনস্কি আরও বলেন, তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর এই মূল্যায়নের সাথে একমত যে, পুতিন ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং বাল্টিক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন। তার মতে, পুতিন বড় ধরনের দখল বা বিজয় ছাড়া এই যুদ্ধ শেষ করতে জানেন না।