ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দ্বিতীয় দফার কম্পন, নিহত ৪৭

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে আঘাত হেনেছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ৬.৯ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ওই এলাকায় আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের ফলে পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশজুড়ে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভূমিকম্পের আঘাতে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং সুনামির আশঙ্কায় আতঙ্কিত শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৩০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ছয়টি অফিস এবং পাঁচটি উপাসনালয় রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও উদ্ধারকাজে ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা উপকূল থেকে দূরে থাকার এবং লোকজনকে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। এর আগে ফ্লোরেস দ্বীপের নাগেকিও রিজেন্সির প্রায় ২,০০০ বাসিন্দা সুনামির প্রাথমিক সতর্কতার কারণে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেরাই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

USGS-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস অঞ্চলের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। মূল ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় ৬.১ ও ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে।

দুর্গত এলাকা থেকে প্রাপ্ত ছবিতে বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এটি একটি চলমান ঘটনা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।