যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবীদের মধ্যে অবসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান থ্রিভেন্ট (Thrivent)-এর ‘২০২৬ রিটায়ারমেন্ট এক্সপেক্টেশনস সার্ভে’ অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৪৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন, তারা কখনোই পুরোপুরি অবসরে যেতে পারবেন না। এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সঞ্চয়ের ঘাটতি।
জরিপটিতে অংশগ্রহণকারী মাত্র ৫৮ শতাংশ কর্মী বিশ্বাস করেন যে, তারা সময়মতো অবসরে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ জমাতে পারবেন। এছাড়া ৩৬ শতাংশ কর্মী অবসরে যাওয়ার পরও আয় অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছেন। চলতি বছরের জুন মাসে ইপসোস (Ipsos) পরিচালিত এই জরিপে দুই হাজারেরও বেশি আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।
থ্রিভেন্টের আর্থিক উপদেষ্টা জেসন রোগফ বলেন, “মানুষ এখন অবসরকে জীবনের শেষ সীমানা হিসেবে না দেখে একটি পরিবর্তন বা ট্রানজিশন হিসেবে দেখছে। আমরা দেখছি মানুষ অবসর নিয়ে আগের চেয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করছে।”
এই উদ্বেগ এমন এক সময়ে সামনে এল যখন আমেরিকান কর্মীরা মুদ্রাস্ফীতি, সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের ঘাটতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক হুমকির মুখে রয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি কর্মী মনে করেন, এসব বিষয় তাদের অবসরের পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল আমেরিকানদের মধ্যে অবসরের আত্মবিশ্বাসের অভাবকে ফুটিয়ে তোলে। বর্তমানে আমেরিকানদের নিজেদেরই আইআরএ (IRA) এবং ৪০১(কে)-এর মতো তহবিলের মাধ্যমে অবসরের সঞ্চয় করতে হয়। দ্য মটলি ফুল-এর সিনিয়র উপদেষ্টা রবার্ট ব্রোক্যাম্প বলেন, “অবসর একটি বড় গাণিতিক সমস্যা। এটি সমাধানের জন্য ভালো কোনো টুল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।”
জরিপে অংশগ্রহণকারী এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কর্মী মনে করেন, তারা তাদের সমবয়সীদের তুলনায় সঞ্চয়ে পিছিয়ে আছেন। অর্ধেক কর্মী জানিয়েছেন, অবসরের কথা ভাবলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কত টাকা সঞ্চয় থাকলে আরামদায়ক অবসর সম্ভব, এমন প্রশ্নে মাত্র ২৩ শতাংশ কর্মী ১০ লাখ ডলারের নিচে অংকের কথা উল্লেখ করেছেন।
ব্রোক্যাম্পের মতে, সাধারণ মানুষ জানে না আসলে কত টাকা ‘যথেষ্ট’। অতীতে বিভিন্ন জরিপে অবসরের জন্য ১২ লাখ ডলার বা তার বেশি সঞ্চয়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ আমেরিকানই এর ধারেকাছে নেই। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, মাত্র অর্ধেক আমেরিকানের কোনো না কোনো অবসরকালীন সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
ধনী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই অবসরকালীন অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তাদের গড় সঞ্চয় প্রায় ৯ লাখ ডলার। ব্রোক্যাম্প একে ‘কে-শেপড রিটায়ারমেন্ট ট্র্যাজেক্টোরি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অনেকেই মনে করেন তারা আজীবন কাজ চালিয়ে যাবেন। এমপ্লয়ি বেনিফিট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ কর্মী অবসরের পরও কাজ করার পরিকল্পনা করেন। তবে বাস্তবে মাত্র ৩১ শতাংশ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কাজ করছেন। অনেক সময় সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা এবং সামান্য সঞ্চয় দিয়েই মানুষ জীবন চালিয়ে নিতে বাধ্য হন।
থ্রিভেন্ট তাদের প্রতিবেদনে সঞ্চয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি ছোট অংকের সঞ্চয়ও দীর্ঘমেয়াদে বড় আকার ধারণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২৭ বছরে ১,০০০ ডলারের একটি বিনিয়োগ শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স অনুযায়ী ১৫,০০০ ডলারে পরিণত হতে পারে। জেসন রোগফ বলেন, “অল্প হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করা অত্যন্ত জরুরি।”
অবসরের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেতন সঞ্চয় এবং ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা অনেক জটিল। এটি নির্ভর করে আপনি কখন অবসর নেবেন, কতদিন বাঁচবেন এবং বাজারের পরিস্থিতির ওপর। রোগফ বলেন, “অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনযোগ্য একটি পরিকল্পনা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
যদি আপনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে না পারেন, তবে অনলাইন প্ল্যানার ব্যবহার করতে পারেন। ব্রোক্যাম্পের মতে, “অবসরের সময় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা কর্মজীবনে নিতে হয়নি। যখন আপনি কাজ করেন, তখন শুধু সঞ্চয় করেন।” এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা সঞ্চয় রাখা জরুরি, কারণ আর্থিক ধাক্কা অবসরের সঞ্চয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি আমেরিকান পরিবারের অন্তত ৩৫,০০০ ডলার জরুরি তহবিল থাকা উচিত।

