লাইখটেনস্টাইনের রাজপরিবার শনিবার ঘোষণা করেছে যে, দেশটির সিংহাসনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে নারীরাও আলপাইন এই দেশটির সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ পাবেন। উত্তরাধিকার নীতিতে এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বংশানুক্রমিক রাজপুত্র অ্যালোইস। তিনি দেশটির জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে জানান, পরিবারের ভোটদানের যোগ্য সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গত বুধবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।
রাজপুত্র অ্যালোইস রাজপরিবারের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রাজপরিবারের ভেতরে ধারাবাহিকতা এবং নতুনত্বের সমন্বয় ঘটানো একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। তিনি বলেন, শত বছরের পুরনো ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদী এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকারের ধারাটি পুরুষতান্ত্রিক অগ্রাধিকার থেকে সরে এসে ‘অ্যাবসোলিউট প্রিমোজেনিচার’ বা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে লিঙ্গ নির্বিশেষে পরিবারের প্রথম সন্তানই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন এবং পরবর্তীতে লাইখটেনস্টাইনের রাজপুত্র বা রাজকুমারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজপরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন নিয়ম কেবল রাজপুত্র অ্যালোইস এবং তার স্ত্রী বংশানুক্রমিক রাজকুমারী সোফির ভবিষ্যৎ সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, বর্তমান উত্তরাধিকার তালিকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পরিবর্তন আসছে না। বর্তমানে প্রিন্স হ্যান্স-অ্যাডাম দ্বিতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০০৪ সালে তিনি তার অধিকাংশ ক্ষমতা ৫৮ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ পুত্র অ্যালোইসের কাছে হস্তান্তর করেছেন। রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের হাতে ক্ষমতা অর্পণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অ্যালোইসের চার সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান ৩১ বছর বয়সী প্রিন্স জোসেফ ওয়েনজেল এবং দ্বিতীয় সন্তান ২৯ বছর বয়সী রাজকুমারী মেরি ক্যারোলিন।
সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী ৪০ হাজার জনসংখ্যার ধনী রাষ্ট্র লাইখটেনস্টাইনের রাজতন্ত্র ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ শক্তিশালী। দেশটির শাসক রাজপুত্রের হাতে গণভোটের ফলাফল বাতিল, বিচারক নিয়োগ এবং সরকার বরখাস্ত করার মতো ক্ষমতা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে রক্ষণশীল এই দেশটি ১৯৮৪ সালে ইউরোপের সর্বশেষ দেশ হিসেবে নারীদের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রদান করে। তৎকালীন রাজপুত্র হ্যান্স-অ্যাডামের সমর্থনে পুরুষ ভোটারদের ভোটে এই পরিবর্তন এসেছিল। উল্লেখ্য, গত বছর ব্রিগেট হাস দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


