হলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক মার্ক রাইডেল ৯৭ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। তিনি অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘অন গোল্ডেন পন্ড’-এর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। তার মেয়ে অ্যামি রাইডেল জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের উডল্যান্ড হিলসে বিনোদন জগতের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য নির্ধারিত একটি আবাসনে বার্ধক্যজনিত কারণে বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়েছে।
নিজের বাবার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অ্যামি রাইডেল ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “বাবাকে কতটা ভালোবাসতাম তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি সত্যিই অনন্য ছিলেন। আমার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং হাস্যরসিক মানুষ ছিলেন তিনি।”
১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন গোল্ডেন পন্ড’ ছবিটি ১০টি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল। এতে হেনরি ফন্ডা, ক্যাথরিন হেপবার্ন এবং জেন ফন্ডা অভিনয় করেছিলেন। হেনরি ফন্ডা এবং ক্যাথরিন হেপবার্ন শ্রেষ্ঠ অভিনয়শিল্পীর অস্কার জিতেছিলেন। আর্নেস্ট থম্পসনের নাটকের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবির চিত্রনাট্যও পুরস্কার পেয়েছিল। সেই বছর পরিচালক হিসেবে মার্ক রাইডেল অস্কারের মনোনয়ন পেলেও ‘রেডস’ ছবির জন্য ওয়ারেন বিটি পুরস্কারটি জিতে নেন।
ছবিটি সে সময় বক্স অফিসে ১১৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছিল, যা ১৯৮১ সালের ‘রেডার্স অফ দ্য লস্ট আর্ক’-এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র ছিল। এটি ছিল হেনরি ফন্ডার শেষ সিনেমা। এতে তিনি নরম্যান থায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে তার মেয়ে জেন ফন্ডার সাথে তার বাস্তব জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছিল।
মার্ক রাইডেলের ক্যারিয়ারে আরও অনেক উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। ১৯৬৭ সালের ‘দ্য ফক্স’, ১৯৬৯ সালের ‘দ্য রিভার্স’, ১৯৭৩ সালের ‘সিন্ডারেলা লিবার্টি’, ১৯৭৯ সালের ‘দ্য রোজ’ এবং ১৯৮৪ সালের ‘দ্য রিভার’ ছবিগুলো অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিল।
১৯২৯ সালের ২৩ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন মর্টিমার হ্যারল্ড রাইডেল। জুলিয়ার্ড স্কুল অফ মিউজিকে জ্যাজ পিয়ানো শেখার পাশাপাশি তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি ও দর্শনে পড়াশোনা করেছেন। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি নেইবারহুড প্লেহাউসে স্কলারশিপ পান এবং পরবর্তীতে ব্রডওয়েতে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন।
পরিচালক হিসেবে কাজ শুরুর আগে তিনি একজন সফল অভিনেতা ছিলেন। ১৯৫৬ সালে ‘ক্রাইম ইন দ্য স্ট্রিটস’ ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। পরবর্তীতে তিনি রবার্ট অল্টম্যানের ‘দ্য লং গুডবাই’ এবং উডি অ্যালেনের ‘হলিউড এন্ডিং’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন।
পরিচালক হিসেবে তিনি সিডনি পোলাকের সাথে মিলে ‘স্যানফোর্ড প্রোডাকশনস’ গঠন করেন। তাদের প্রযোজনায় ‘জেরেমাইয়া জনসন’ এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে পালমে দোর বিজয়ী ‘স্কেয়ারক্রো’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা নির্মিত হয়েছে। জন ওয়েইনকে নিয়ে তিনি ১৯৭২ সালে ‘দ্য কাউবয়েজ’ পরিচালনা করেন।
অভিনেত্রী বেট মিডলার তার পরিচালনায় ‘দ্য রোজ’ ছবিতে অভিনয় করে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। মিডলার তার স্মৃতিচারণায় বলেন, “তিনি অভিনেতাদের মনের ভাষা বুঝতেন। তার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।”
টেলিভিশন জগতেও রাইডেলের অবদান ছিল বিশাল। ১৯৭৬ সালে তিনি এবিসি ড্রামা ‘ফ্যামিলি’-র পাইলট পর্ব পরিচালনা করেন। এছাড়া ‘ক্রাইম অফ দ্য সেঞ্চুরি’ এবং ‘জেমস ডিন’-এর মতো টিভি মুভি পরিচালনা করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি ইউসিএলএ-তে চলচ্চিত্র কর্মশালা পরিচালনা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “শিল্পের মূল লক্ষ্য হলো সত্যকে তুলে ধরা।”
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুইবার বিবাহিত ছিলেন। প্রথম স্ত্রী জোয়ান লিনভিলের ঘরে তার দুই সন্তান অ্যামি ও ক্রিস্টোফার এবং দ্বিতীয় স্ত্রী এস্টার রাইডেলের ঘরে আলেকজান্ডার নামে এক সন্তান রয়েছে।




